আবার আমি জ্বলে উঠবো : তিন্নি
শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, আমাদের
শোবিজের এক হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্র। গত প্রায় দুই বছর ধরে এই
গ্ল্যামারগার্ল মিডিয়ায় অনুপস্থিত। ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগ, কাজ
নিয়ে খামখেয়ালীপনা, শিডিউল ঘাপলা ইত্যাদি কারণে ধ্বস নামে তিন্নির
ক্যারিয়ারে। ব্যক্তিজীবনে একটার পর একটা স্ক্যান্ডালের জন্ম দিয়ে তিনি
চলে যান পর্দার আড়ালে।
|
‘ইশ্ক ইশ্ক’.. । না, এই ‘ইশ্ক’ মোটেও পেয়ার-মহব্বত না। লাক্স সুন্দরী ইশানাকে বন্ধুরা এ নামেই ডাকে। ২০০৯ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ইভেন্টের ফার্স্ট রানার আপ এই সুন্দরী অল্প সময়েই পেয়েছেন সুপরিচিতি। বেশ কিছু নাটক আর বিজ্ঞাপনে কাজ করে দিয়েছেন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। ইশানা এখন বড়পর্দায় অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন।
ইশানার পুরো নাম মৌনিতা খান ইশানা। জন্ম ১৯৮৭ সালে কুমিল্লা। বেড়ে উঠেছেন কুমিল্লা শহরেই। ইশানার পরিবারের সবাই সংস্কৃতিমনা। বাবা মাহবুব আলম খান পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও এক সময় যুক্ত ছিলেন মঞ্চনাটকের সঙ্গে। মা নীলিমা ইসলাম তার ছাত্র-জীবনে ছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক। কাজেই মিডিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে পারিবারিক সমর্থন আর অনুপ্রেরণা সবসময়ই তার সঙ্গে আছে।
নিজের পরিবার সম্পর্কে ইশানা বললেন, আমার বাবা-মা ভীষন সংস্কৃতিমনা। আমার সব কাজেই আছে তাদের সমর্থন ও উৎসাহ। মিডিয়ায় আসা আর কাজ করা, সবই তাদের উৎসাহে। বাবা-মায়ের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে আমি নিজেও মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে যাই। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি এমন একটি পরিবারে জন্ম নেওয়ায়।
ইশানা সব সময়ই ক্লাসের শেষ বেঞ্চের ছাত্রী । সামনের সারিতে বসার আত্মবিশ্বাস তার ছিল না। মিডিয়ায় হাতেখড়ি হলেও কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নিজেকে মাপার কথা কখনো ভাবেননি কখনো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে আমাদের কুমিল্লার মেয়ে বিদ্যা সিনহা মিম সুপারস্টারের খেতাব জিতলেন। মিম সবার সেরা হওয়ায় আমি ভাবতে থাকি, কেন আমি লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার নই? নিজেকে তৈরি করতে শুরু করলাম। একটু একটু করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হলো। পরের বছর অংশ নিলাম ইভেন্টে। সেরা ১০-এ পৌছে যাবার পর মনের ভিতর কেমন যেন টেনশন বোধ করি। এ সময় পরিবার এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। পরিবার থেকে বলা হয়, তোমাকে জিততেই হবে, এমন কোনো চাপ নেই। ইউ গিভ ইউর বেস্ট। পরিবারের এই আশ্বাসই আমাকে এগিয়ে দেয় অনেক দূর।
ইশানার এই সময়ের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে বললেন, ঈদের নাটক নিয়ে এরই মধ্যে অনেক নির্মাতাই কাজ শুরু করেছেন। আমার কাছে এসেছে বেশ কিছু নাটকে অভিনয়ের অফার। শুরুর দিকে কোনো বাদ-বিচার না করে অভিনয় করলেও এখন একটু বুঝেশুনে পথ চলতে চাই। নাটকের গল্প, চরিত্র আর নির্মাতা পছন্দ হলেই কেবল অভিনয়ের সম্মতি দিচ্ছি আমি।
ইশানার কাছে তার অভিনীত কিছু পছন্দের কাজের কথা জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমার পছন্দের কাজের তালিকাটা বেশ বড়। এ মুহূর্তে মনে পড়ছে চয়নিকা চৌধুরীর ‘আকাশের নিচে মানুষ’, সকাল আহমেদের ‘সীমানা পেরিয়ে’, আনু আশরাফের ‘তাল বেতাল’ তন্ময় তানসেনের ‘ফিরিয়া দিলাম পৃথিবী’, সাহাজাদা মামুনের `ওয়ানটেস্ট` প্রভৃতি নাটকের নাম।
বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হিসেবেও ইশানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাহিদা। ইশানা সম্প্রতি মডেল হয়েছেন রেডডটের ব্যানারে সানসিল্ক শ্যাম্পু এবং একটি এনার্জি ড্রিংকসের। তার করা উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে ফেয়ার এ্যান্ড লাভলি, ম্যানস একটিভ, পেনাসনিক, বাংলা লায়ন, মাম স্ন্যাক টি প্রভৃতি। ইশানা জানালেন, একটি বড় বিউটি প্রডাক্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তার কাজ করার কথাবার্তা চলছে।
চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইশানা বললেন, গতবছরই তন্ময় তানসেনের পরিচালনায় আমার প্রথম ছবি ‘তোমায় দিলাম পৃথিবী’ নামের ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। নানাকারণে তা পিছিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি প্রডাকশন থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসে ছবিটির শুটিং শুরু হচ্ছে। এখানে আমার বিপরীতে কাজ করবেন প্রকাশ। এরই মধ্যে কলকাতার একটি বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করে বেশ আলোচিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে দেখা যাবে যে, আমি বড় লোকের আদরের একমাত্র মেয়ে। সব ছেলেই আমাকে পটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমি কাউকেই পাত্তা দেই না। প্রকাশ সে অনেক গরিব। সেও আমাকে ভালবাসে। তার ভালবাসার কোন মূল্যায়ন আমি করি না। এক পর্যায়ে প্রকাশকেই সত্যিকারে ভালবাসতে শুরু করি। এ রকমই একটি নিটল প্রেমের কাহিনী নিয়েই ‘তোমায় দিলাম পৃথিবী’ চলচ্চিত্রটির গল্প।
চলচ্চিত্রে নিয়মিত হবেন কিনা জানতে চাইলে ইশানা বললেন, অপেক্ষায় আছি বড়পর্দায় অভিষেকের। আগে একটা ছবিতে কাজ করে দেখতে চাই, দর্শকেরা আমাকে কীভাবে নেন। এরপর চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে,
অনেক খোজাঁখুজির পর পাওয়া গেছে তিন্নির সন্ধান। তিন্নি এখন অবস্থান করছেন
তার মায়ের সঙ্গে রাজধানীর ইস্কাটনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। তার সঙ্গে আছে
একমাত্র মেয়ে ওয়ারিশা। তিন্নির এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে তার সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি
জানান। শেষপর্যন্ত ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, এই শর্তে
কথা বলতে রাজি হন।